March 5, 2026, 1:04 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগামী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তাঁর বগুড়া সফরের কথা থাকলেও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনের কারণে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ চূড়ান্ত করেছে। “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”—এই দর্শনকে ভিত্তি করে প্রণীত নীতিমালাটি শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হবে।
কারা পাবেন না ফ্যামিলি কার্ড?/
নীতিমালা অনুযায়ী নিম্নোক্ত শ্রেণির পরিবারগুলো এ কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ থাকবেন— পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি পেনশনভোগী হলে, সরকারি চাকরিজীবী সদস্য থাকলে, বাড়িতে এসি ব্যবহার বা ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে, বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী বা বড় ব্যবসার মালিক হলে।
সরকার জানিয়েছে, নিম্ন-মধ্যম ও উচ্চ আয়ের ছয় শ্রেণির মানুষকে সুবিধার বাইরে রেখে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অগ্রাধিকার পাবেন যারা/
নীতিমালায় সাতটি শ্রেণিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে এমন পরিবার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী—হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক পাঁচ একর বা তার কম জমির মালিক পরিবার। কার্ডের সুবিধাভোগী নারী নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সুবিধাভোগী বাছাইয়ে সরকারের খানা জরিপ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডেটাবেইস ব্যবহার করা হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডে রূপান্তর করা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ও ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা ছাড়াও ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির সুবিধা পাওয়া যাবে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি ভিন্নধর্মী এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তি (শহুরে বস্তি), চট্টগ্রামের পটিয়া (শিল্প এলাকা), বান্দরবানের লামা (পার্বত্য এলাকা), সুনামগঞ্জের দিরাই (হাওর এলাকা), ঠাকুরগাঁও সদর (সীমান্তবর্তী এলাকা) দারিদ্র্যের ঘনত্ব, ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ ও অনগ্রসরতা বিবেচনায় এসব এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা, যার ৭৭ শতাংশ সরাসরি দরিদ্র পরিবারের হাতে পৌঁছাবে।
লক্ষ্যমাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা/
প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা এ কার্ড পাবেন। প্রথম ধাপে সাড়ে ছয় হাজার পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দুই কোটি দরিদ্র পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু থাকলেও সমন্বয়হীনতা ও একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২-২৫ শতাংশ প্রকৃত দরিদ্র পরিবার সুবিধাবঞ্চিত থাকছে। এসব সমস্যা দূর করে বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়াই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।
দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।